বিদ্যালয়ে প্রচলিত নানা প্রকল্প – পর্ব ২

এসএসসি’র ইন্টারভিউয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়ে প্রচলিত নানা প্রকল্প গুলি। সেই সমস্ত প্রকল্প গুলি সম্পর্কে নানা তথ্য আমাদের জেনে রাখতে হবে। এই পোস্টে বিদ্যালয়ের নানা প্রকল্প নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

কন্যাশ্রী প্রকল্প

এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব প্রকল্প। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। কন্যাসন্তানদের উপযুক্ত শিক্ষাদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পের সূচনা। এই প্রকল্পের সুবিধা পায় ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েরা। প্রধান শর্ত ছাত্রীটিকে অবশ্যই অবিবাহিতা হতে হবে এবং পারিবারিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজারের মধ্যে হতে হবে। তবে ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ছাত্রীর পারিবারিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি হলেও এই সুবিধা পাবে। সেই সঙ্গে আবেদনকারীর নিজের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। মূলত দুইভাবে আবেদন করা যায়।

১৮ বছরের নীচে ছাত্রীরা K1 এর আবেদন করবে। এই আবেদনের ভিত্তিতে ছাত্রীটি বার্ষিক  ১০০০  টাকা পাবে। অন্যদিকে ১৮ বছর বা তদুর্দ্ধ ছাত্রীরা K2 এর জন্য আবেদন করতে পারবে যার অর্থমূল্য এককালীন ২৫ হাজার টাকা। যদি কোন ছাত্রী এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তাহলেও সে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবে পোর্টালের ট্রান্সফার অপ্সনের মাধ্যমে। তবে এর জন্য যা কিছু তা করবে বিদ্যালয়।

প্রকল্পের শ্লোগান – ‘আমি প্রগতি, আমি কন্যাশ্রী’। এই প্রকল্পের জন্য যে লোগো তা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি। বলা বাহুল্য এই প্রকল্পটি দেশে বিদেশে বহু প্রশংশিত হয়েছে। বিভিন্ন পুরষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইউনাইটেড নেশনস কর্তৃক WSIS 2016।

সবুজ সাথী প্রকল্প

এই প্রকল্পটিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব প্রকল্প। ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসতে যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে সেজন্য তাদের সাইকেল দেবার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৯ শে অক্টোবর ২০১৫। নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা এই প্রকল্পের আওতাধীন। কন্যাশ্রী প্রকল্পের মত একটি ওয়েব বেসড পোর্টালের মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ডেটা এন্ট্রি করতে হয়। তারপর তা বিদ্যালয় স্তর থেকে ই ফরোয়ার্ড করা হয় ব্লক স্তরে। ক্রমশ রাজ্যস্তরে পৌছয় সেই ডেটা। সব কিছু ঠিক থাকলে বিদ্যালয়ের তালিকা অনুসারে দেওয়া হয় সাইকেল। গড়পরতা একটি সাইকেলের জন্য অর্থ বরাদ্ধ করা হয়েছে ৩২০০ টাকা। TI, HERO এবং AVON কোম্পানীকে ই টেন্ডারের মাধ্যমে সাইকেল তৈরীর বরাত দেওয়া হয়। প্রকল্পের লোগোটি তৈরী করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মিশন নির্মল বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চল থেকে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ চিরতরে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয় মিশন নির্মল বাংলা অভিযানের। লক্ষ্য পুরোপুরি স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এরজন্য ১০০ শতাংশ শৌচাগার ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়। এরকম পরিকল্পনা নেওয়া হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা রাস্তার নির্দিষ্ট দূরত্বের ব্যবধানে শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। মূলত চেতনার প্রসার, নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস তৈরী করে বাংলা নির্মল হিসেবে গড়ে তোলাই এই মিশনের লক্ষ্য। প্রকল্পটির সূচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – ২০১৫ সালের ৩০ শে এপ্রিল, নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পরবর্তীকালে এই ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পকে কেন্দ্র সরকার ‘রোল মডেল’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রসঙ্গত আরো একটি তথ্য মনে রাখতে হবে, সারা দেশে নদীয়া জেলা ‘প্রথম মুক্ত শৌচহীন’ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে উত্তর চব্বিশ পরগণা। তৃতীয় ও চতুর্থ যথাক্রমে – হুগলী ও বর্ধমান।

যুবশ্রী প্রকল্প

রাজ্যের বেকার যুবকদের আর্থিক সাহায্যের জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা অনুসারে রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

শিক্ষাশ্রী প্রকল্প

বিদ্যালয়ে উচ্চপ্রাথমিক স্তরে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের পড়াশোনায় আর্থিক সাহায্যের উদ্দেশ্যে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সূচনা করা হয়। সূচনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রক। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী প্রকল্পের পর এই শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের ঘোষণা করেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – ২০১৪ সালের ৩০ শে জুন। যেসমস্ত তপসিলি জাতি বা উপজাতির ছেলেমেয়েরা সরকারি অথবা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং যাদের পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম তারাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা কেন্দ্রীয় সরকারের স্কলারশিপ পায় বলে তাদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে।

আলোচক – নীলরতন চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক – SSC Target SLST Bangla by Progressive Publisher (Kolkata)

Leave a Reply