ইন্টারভিউ কি ও আপনার কর্তব্য

আমাদের এই আলোচনায় ইন্টারভিউ সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ইন্টারভিউ কক্ষে আপনার আচরণ, আপনার অ্যাটিটিউড বা আপনার মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি প্রার্থীরা উপকৃত হবেন।

প্রাককথা

ইন্টারভিউয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হল সশরীরে প্রার্থীকে বিচার করা। টেবিলের ওপারের মানুষগুলি কিন্তু ঠিক আপনার জ্ঞানকে তলিয়ে মাপতে বসেননি। সেসব মাপামাপির কাজ শেষ হয়ে গেছে লিখিত পরীক্ষার সঙ্গেই।

সেখানে আপনি ভালো ফল করতে পেরেছেন বলেই আপনাকে কিন্তু ডাকা হয়েছে ইন্টারভিউয়ে, অকারণ আপনাকে নাকাল করতে নয়। অতএব ‘আমি এগিয়ে থেকেই শুরু করছি এবং বাকি সাফল্যটুকু অর্জন করতে আমি পুরোভাগে সক্ষম’ এই কথাটা মাথায় রাখলে ইন্টারভিউ কক্ষে প্রবেশের সময় দেখবেন পা ভারি লাগছে না।

ইন্টারভিউ পর্বে আপনাকে ডাকা হয়েছে শুধু আপনার পার্সোনালিটি পরীক্ষার জন্য। আপনি মানুষটা কেমন, আপনার হাঁটা চলা, অ্যাটিটিউড, মতামত প্রকাশের ধরন বা চিন্তাভাবনার কেমন বহিঃপ্রকাশ এসব জানতে। ইন্টারভিউ কক্ষে আপনার সামনে বসে আছেন যারা তাদের ব্যক্তিত্ব, কয়েকজোড়া চোখের চাউনি আপনার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ মাপছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনাকে নার্ভাস হলে চলবে না। কেননা আপনি যত নার্ভাস হবেন আপনার সাফল্য লাভের সম্ভাবনা কমতে থাকবে।

ইন্টারভিউ কক্ষে প্রবেশের পর সাধারণত প্রথম দিকে কিছু সৌজন্যমূলক প্রশ্ন করা হয়। যেমন ধরুন, আপনার নাম, আপনার বাড়িতে কে কে আছেন, জীবনে লক্ষ্য কী এই জাতীয়। যেকোন উত্তর দেবার সময়েই আপনাকে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। নিজের মানসিক ধৈর্য বাড়াতে হবে।

কৌশল কথা

আপনাকে অন্য যেসব প্রশ্ন করা হবে তার সব যে আপনি জানবেন এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু তাহলেও আপনাকে এতটুকু নার্ভাস হলে চলবে না। কোন প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকলে তা সরাসরি ‘জানি না’, ‘জানা নেই’ জাতীয় কিছু বলুন। কোন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত কখনওই কিছু বলতে যাবেন না। বা মতামত দেবার ক্ষেত্রে কিংবা কোন যুক্তি চাওয়ার ক্ষেত্রে ‘এমন হওয়া উচিত’ জাতীয় উত্তর কাম্য নয়। এক্ষেত্রে আপনার উত্তর হবে নিজ মস্তিষ্ক প্রসূত। নিজের যুক্তি দিয়ে।

কোন উত্তর নিয়ে আপনার সাথে প্রশ্নকর্তার মতবিরোধ হবার উপক্রম হতেই পারে। এক্ষেত্রে নিজের ধৈর্য ধরে রাখুন। পালটা চ্যালেঞ্জ দেবেন না বা নিতে যাবেন না। তারা অনেকসময় আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবার জন্য জেনে বুঝেই বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারেন। আপনাকে সুকৌশলে তা মানিয়ে নিতে হবে। আপনার রাগ বা উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

প্রকৃতপক্ষে ইন্টারভিউ মানে একটি মনস্তাত্বিক খেলা। প্রশ্নকর্তারা আপনাকে নানাভাবে নানা প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করতে চাইবেন। আর আপনি চাইবেন, কীভাবে সমস্ত পরিবেশ, পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে আসে। সেজন্য সোজা পথ একটাই – প্রথমেই একটা দুর্দান্ত ‘ইম্প্রেসন’ তৈরী করে ফেলা।

মনে রাখবেন – First impression is the best way of success

Edited from Niranjan Sarkar, Asst Teacher, V V High School

Leave a Reply