ইন্টারভিউ মডেল প্রশ্নোত্তর – পর্ব ১

আমাদের এই আলোচনায় ইন্টারভিউ সম্পর্কে নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলা বিষয়ের জন্য ইন্টারভিয়ের  মডেল প্রশ্নোত্তর পাবেন এই পোস্টে। ধাপে ধাপে মোট ৫০ টি মডেল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। আজ প্রথম পর্ব।  আশা করি প্রার্থীরা উপকৃত হবেন।

মডেল প্রশ্নোত্তর

১] কপালকুন্ডলা অথবা মৃন্ময়ী কোনটিকে আপনি বাংলা সাহিত্যের পরিপূরক উপন্যাস বলবেন এবং কেন ?

মৃন্ময়ী। কারণ পরিপূরক উপন্যাস হল সেইসব স্বতন্ত্র উপন্যাস যা অন্য কোন উপন্যাসের শেষ অংশ নিয়ে রচিত হয়। ‘মৃন্ময়ী’ সেই শর্ত পূরণ করেছে।

২] বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে Rapid Text এর প্রয়োজন কী ?

Rapid Text ছাত্রছাত্রীদের রস পিপাসাকে জাগিয়ে তুলতে পারে। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। নির্বাচিত পাঠ্যের বাইরে গিয়েও কিছু পড়ার প্রেরণা যোগায়। সব থেকে বড় কথা, ছাত্রছাত্রীদের অধিক জিজ্ঞাসা ও কৌতূহল চরিতার্থ করে তুলতে পারে এই Rapid Text।

৩] বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের কোন প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করেন ?

হ্যাঁ আছে। কারণ এই প্রকল্প ছাত্রছাত্রীদের অনেকখানি বিদ্যালয়মুখী করেছে। তাছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের অনেক উপকার হয়েছে।

৪] বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের কোন অসুবিধা আছে বলে আপনি মনে করেন ?

যদিও অনেক জায়গায় এখনও উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব বা অন্যান্য সমস্যা আছে তবু সরকার তা সমাধান করতে সচেষ্ট। তাছাড়া, আমার মনে হয়, কোন বৃহৎ কাজ করতে গেলে নানা সমস্যা থাকেই। সেই সমস্যাগুলোকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে গিয়ে আমাদের লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে।

৫] ব্যাকরণ পাঠদানে কোন সমস্যা থাকতে পারে ? সমস্যা থাকলে তার সমাধান কী বলুন।

হ্যাঁ স্যার। কিছু সমস্যা আছে। আমার মনে হয় সবার আগে আমাদের সংস্কৃত অনুসারে নয় বিশুদ্ধ বাংলায় বই রচনা করতে হবে। সংজ্ঞা থেকে শুরু না করে উদাহরণ দিয়ে পাঠ শুরু করতে হবে। ব্যাকরণ মানেই ছাত্রদের কাছে ভিয়ের ব্যাপার। তাই ব্যাকরণ বই এমনভাবে রচনা করতে হবে যাতে ছাত্ররা পড়তে আগ্রহী হয়। যদিও বর্তমানে এইভাবেই ব্যাকরণ বই রচনা শুরু হয়েছে। আমাদের এই ধারা বজায় রাখতে হবে এবং আরো উন্নতি করতে হবে।

৬] বিদ্যালয় স্তরে পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষাগুলির সমর্থন করেন ? কেন ?

হ্যাঁ, সমর্থন করি। কারণ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সারা বছরই মূল্যায়নের আওতায় রাখা যায়। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভুলগুলি চিহ্নিত করতে পারে এবং ক্রমশ নিজেদের উন্নতি করতে পারে। শিক্ষক শিক্ষিকারাও তাদের ছাত্রছাত্রীদের ত্রুটি বুঝে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

৭] বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের যুগ বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা কী ?

কোন কবি সাহিত্যিক এবং সমকালীন সমাজজীবনের ইতিহাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে কিংবা সাহিত্যের ইতিহাসের ধারাটি বুঝতে সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের যুগ বিভাজনের প্রয়োজন আছে।

৮] শিক্ষার্থীদের সরব পাঠ করানোর কোন উপকারিতা আছে ? যুক্তি দিন।

হ্যাঁ, উপকার অবশ্যই আছে। সরব পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থী শব্দের সঠিক উচ্চারণ শিখতে পারে। তাদের পাঠে যদি কোন ত্রুটি থাকে তবে তা দূর করা সম্ভব হয়। ছাত্রছাত্রীদের বাচনভঙ্গী শেখানো যায় সরব পাঠের দ্বারা।

আরো পড়ুন

৯] বর্তমানে বিদ্যালয় পাঠ্যসূচীতে কিছু অনুবাদমূলক রচনা যুক্ত করা হয়েছে। ছাত্রদের অনুবাদ করা শেখাতে হলে আপনি কোন বিষয়ে নজর দেবেন ?

অনুবাদ শেখানোর আগে আমাকে বুঝতে হবে, উভয় ভাষায় ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক বোধ কতখানি। কঠিন শব্দ ও তার অর্থ আমাকে বোর্ডে লিখে দিতে হবে। শব্দ, বাক্যাংশ ও বাক্য এই ধারায় তারা যাতে অনুবাদ করতে শেখে তা আমাকে দেখতে হবে।

১০] আপনার বিষয়ের পরীক্ষায় একজন প্রথম হয়েছে। দুইজন দ্বিতীয় হয়েছে। ‘দ্বিতীয়’টিকে আপনি কি বলবেন ?

পূরণবাচক বিশেষণ।

১১] ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের জন্য বিদ্যালয়ে কোন প্রকল্প চালু রয়েছে ?

সবুজ সাথী প্রকল্প, মিড ডে মিল প্রকল্প

১২] সাহিত্য কী ?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমি শ্রদ্ধেয় শ্রীশচন্দ্র দাশ মহাশয়ের উক্তি তুলে ধরছি। কেননা সাহিত্য পাঠের পর আমারও তাই অনুভূতি যে, “নিজের কথা, পরের কথা বা বহির্জগতের কথা সাহিত্যিকের মনোবীণায় যে সুরে ঝংকৃত হয় তাদের শিল্পসম্মত প্রকাশই হল সাহিত্য”।

১৩] বিদ্যালয়ে পাঠদান ছাড়া আর কীভাবে আপনি ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করতে পারেন ?

বিদ্যালয়ে পাঠদান ছাড়া আমি ছাত্রছাত্রীদের আবৃত্তি শিখিয়ে কিংবা কম্পিউটার শিখিয়ে সাহায্য করতে পারব। [পরীক্ষার্থী নিজের দখল অনুসারে এই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন দিতে পারেন]

১৪] আবৃত্তি করার কোন উপকারীতা আছে বলে আপনি বিশ্বাস করেন ? যুক্তি দিন।

হ্যাঁ অবশ্যই আছে। আমার মনে হয়, আবৃত্তি কথন দক্ষতা বিকাশে অনেক সহায়ক। আবৃত্তি করতে হলে ছাত্রছাত্রীকে ছন্দ, যতি, ভাবের সঙ্গতি কিংবা কন্ঠস্বরের ওঠানামা সম্পর্কে বুঝতে হবে। ফলে এ ক্ষেত্রেও ছাত্রছাত্রীরা নতুন কিছু শিখতে পারে।

১৫] কিছু ছাত্র বা ছাত্রী প্রায়ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আপনি তাদের কীভাবে সঠিক পথে নিয়ে আসবেন ?

প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর মধ্যেই আছে কিছু আবেগ, কিছু অনুভূতি। তাদের সঠিক পথে আনতে হলে আমাকে প্রথমে তাদের সাথে একজন বন্ধুর মত মিশতে হবে। তাদের সমস্যাগুলি ঠিক কোথায় তা অনুধাবন করতে হবে। তারপর সেই সমস্যাগুলি দূর করতে হবে। প্রয়োজনে আমার শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে বদল আনতেও হবে।

আলোচক – নীলরতন চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক – SSC Target SLST Bangla, by Progressive Publisher (Kolkata)

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + 19 =