ইন্টারভিউ – কিছু গাইডলাইনস

আমাদের এই আলোচনায় ইন্টারভিউ সম্পর্কে নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইন্টারভিয়ের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে আপনার পোশাক পরিচ্ছদ কেমন হবে, কেমন হবে আপনার আচরণ যাবতীয় গাইডলাইন পাবেন এই পোস্টে। আশা করি প্রার্থীরা উপকৃত হবেন।

ইন্টারভিউ প্রস্তুতি

ঘুম থেকে উঠেই শরীর ও মনকে আগে সতেজ করে নিন। মনের মধ্যে যেন কোনরকম টেনসন বা উদ্বেগ না থাকে। মনে রাখবেন উদ্বেগ বা চাপা টেনসন থাকলে আপনি বোর্ডের সামনে নিজেকে ঠিকমত মেলে ধরতে পারবেন না। মন তাজা রাখতে হালকা একটু প্রাণায়াম বা যোগাভ্যাস করে নিতেও পারেন।

পোশাক ও সাজসজ্জা

আপনার পোশাক হবে রুচিশীল। কেমন পোশাক পড়বেন ? এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ, ছেলেরা সাদা বা হালকা রঙের জামার সঙ্গে কালো প্যান্ট পড়তে পারেন। মহিলাদের রুচিসম্মত শাড়ি। হাতে উভয়েই ঘড়ি ব্যবহার করবেন। হাতে বা গলায় কোথাও কোন তাবিজ বা মাদুলি জাতীয় কিছু ব্যবহার করবেন না। অধিক মাত্রায় গহনা ব্যবহার করাও উচিত হবে না। অথবা একান্তই করতে হলে সামান্য।

ইন্টারভিউ সেন্টারে পৌঁছানো

ইন্টারভিউ সেন্টারে আপনার উপস্থিতির সময় হিসেব করে অন্তত এক ঘন্টা আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বাড়ি থেকে এক্সাম সেন্টার যাবার সময় অবশ্যই দু তিনটি নিউজ পেপারে চোখ রাখুন। কাজে দিতে পারে। যথা সময়ে এক্সাম সেন্টারে আপনার উপস্থিতি জানান দিন। আপনার চালচলন ও আচরণ এই সময় থেকেই মার্জিত ও ভদ্র হতে শুরু করুক। এরপর নির্দেশমত অপেক্ষা করুন যথাস্থানে। কোনপ্রকারের টেনসন মনে আসতে দেবেন না। আপনি ভাবতে থাকুন, আপনি অপেক্ষা করছেন, আপনার সফলতার দোড়গোড়ায়। একটা ধাপ শুধু বাকি। মনে জাগুক দৃঢ় প্রত্যয় – “যদি আজ একজনও চূড়ান্ত পর্যায়ে সাফল্য পায় তো সে আমি।”

অপেক্ষার অবসান ও ইন্টারভিউ কক্ষে প্রবেশ

এরপর একসময় আপনার অপেক্ষার অবসান ঘটবে। আপনার ডাক পড়বে ভেতরে যাবার। ডাক শুনেই আপনার মনে প্রথমে একটা কোথাও চাঁপা টেনসন আসতে চাইবে। কিন্তু আপনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, মনে টেনসন আসতে দেবেন না। তাই ঐ টেনসন স্থায়িত্ব পাবে না। আপনি ভেতরে যেতে প্রস্তুত।

ভেতরে যাবার আগে অবশ্যই অনুমতি নেবেন – ‘আসতে পারি স্যার’ বা ‘আসব স্যার’ ইত্যাদি। অনুমতি পেলে তবেই প্রবেশ করুন। অনেকে ভেতরে ঢুকেই চেয়ারে বসে পড়েন। এমনটা করবেন না। বসার আগে অনুমতি নিন অথবা তাদের নির্দেশের অপেক্ষা করুন। বসার অনুমতি বা নির্দেশ পেলে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে বসুন নির্দিষ্ট চেয়ারে।

আপনি চেয়ারে বসলেন। আপনার হাতে আছে ফাইল বা ব্যাগ। কোথায় রাখবেন ভাবছেন ? সামনেই তো টেবিল। ওখানে ? না। আপনার কোলেই রাখুন। অথবা টেবিলে রাখার আগে অনুমতি চেয়ে নিন। এরপর প্রশ্নকর্তারা আপনার বায়োডাটা বা টেস্টিমোনিয়ালস দেখতে চাইতে পারেন। ধীরতার সঙ্গে সেসব দেখান।

প্রশ্নোত্তর পর্ব

এরপর শুরু হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। আপনাকে আপনার বিষয় সহ বিদ্যালয়, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আপনার মনোভাব, শিক্ষা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা, প্রকল্প, আপনার প্রিয় ব্যক্তি, হবি ইত্যাদি জানতে চাওয়া হতে পারে। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিন স্থিরতার সঙ্গে, ধৈর্যের সঙ্গে। উত্তর দেওয়ার আগে ভাবুন। পরে নয়। প্রশ্নকর্তার কোন প্রশ্নের উত্তর দেবার সময় প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিন। চেস্টা করবেন উত্তর প্রদানকালে আপনার দৃষ্টি যাতে উপস্থিত অন্যান্য প্রশ্নকর্তার দিকেও যায়। উত্তর দেবার সময় কখনওই আপনি চেয়ার, টেবিল, দেওয়াল বা মাটির দিকে তাকাবেন না। যদি আপনার দেওয়া উত্তরে তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তাহলে তাদের ধন্যবাদ জানান। কোন প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকলে তা সরাসরি জানিয়ে দিন এবং না জানার জন্য দুঃখ প্রকাশ করুন। কিন্তু মোটেও ‘জানতাম, ভুলে গেছি’ এই জাতীয় মনোভাব বা আচরণ করবেন না। অনেক সময় প্রশ্নকর্তারা আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে চান।

আপনাকে নানাভাবে উত্তেজিত করার চেষ্টাও করা হতে পারে। আপনি বিচলিত হবেন না, উত্তেজিত হবেন না। বরং বোর্ডের সামনে থাকাকালীন আপনার মুখে যেন স্মিতহাসি লেগে থাকে। আপনাকে যতটুকু প্রশ্ন করা হবে ততটুকুই উত্তর দিন। বেশি জ্ঞান দেখাতে গেলেই বিপদ হতে পারে। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় ইংরেজীতে আপনি উত্তর দিন ইংরেজীতেই। যদি করা হয় বাংলায় তাহলে বাংলাতেই উত্তর দেবেন। একটা কথা মনে রাখবেন, কোন প্রশ্নের উত্তর দেবার সময়, হাতে হাত ঘষা, আঙুল ফোটানো বা মাথা চুলকানো জাতীয় কিছু করবেন না।

প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে প্রশ্নকর্তারাই আপনাকে জানিয়ে দেবে। তাঁরা হয়তো বলবেন, ‘আসুন’ বা ‘আপনি আসতে পারেন’ জাতীয়। আপনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মার্জিত ভঙ্গীতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন।

By Nilratan Chatterjee, Editor, “SSC Target – SLST Bangla”, Published by Progressive publisher

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 13 =